বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন

মজুরি বোর্ড গঠন ও ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন। গত ২৩ অক্টোবর,২০২৬ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম জেলার বায়োজিদ থানা কমিটির উদ্যোগে বিকাল ৪ টায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের বায়োজিদ থানা কমিটির সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি খোরশেদ, সদস্য নুর আলম মাষ্টার, বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আফছার হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলার সহ-সভাপতি ফিরোজা আক্তার রুজি, সহ-সভাপতি তাহেরা বেগম,যুগ্ন সম্পাদিকা মাহমুদা আক্তার সোনিয়া,কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবদীন,চট্টগ্রাম জেলা নির্মাণ শ্রমিক সংঘের সভাপতি জামাল হোসেন,বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি আহ্বায়ক সোহেল,বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাত হোসেন, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সবুজ, সামুদ্রিক মৎস্য শিকারী জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি শেখ ফরিদসহ গার্মেন্টস্ সংগঠনের ইপিজেড অঞ্চল কমিটির নেতা সাদ্দাম হোসেন, মোঃ পারভেজ হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের বাজারে গার্মেন্টস শ্রমিকদের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। অপরদিকে শ্রমিকদের মজুরির কোনো পরিবর্তন তো নেই-ই; উলটো এই সংকটময় পরিস্থিতিতেও মালিকপক্ষ যত উপায়ে সম্ভব গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি ঠকিয়ে, অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করে দিনের পর দিন সম্পদের পাহাড় গড়ে চলেছে। এমতাবস্থায়, গার্মেন্টস সেক্টরে সরকার কর্তৃক ঘোষণা করা ২০২৩ সালের গেজেটের সাথে বর্তমান বাজারের কোনো সামঞ্জস্য নেই। কিন্তু, শ্রমিকদের এই করুণ অবস্থার দিকে রাষ্ট্রের ইচ্ছাকৃত অবহেলা লক্ষ্য করা যায়। শ্রমিকরা অধিকারের লড়াইয়ে সংগঠিত হলে মালিকপক্ষ কর্তৃক হয়রানি, ব্লাকলিস্টেড হয়ে অন্যায়ভাবে ছাঁটাইয়ের শিকার হতে হয়।একই সাথে মুজুরী বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর রাষ্ট্রীয় পেটোয়া বাহিনী ও মালিক গোষ্ঠীর লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। বক্তারা এসকল প্রকার হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

বক্তারা অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ, অন্যায়ভাবে ছাঁটাই বন্ধ এবং অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের দাবি জানান। এ প্রেক্ষিতে সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে কঠোর লড়াই-সংগ্রাম ও প্রতিরোধ গড়ে তুলে শ্রমিকদের দাবি ছিনিয়ে নিতে প্রস্তুত থাকার জন্য আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর টেক্সটাইল মোড় থেকে শুরু হয়ে বায়োজিদ ক্যান্টেমেন্ট মোড় হয়ে ক্লিফ্টন কারাখানার সামনে এসে শেষ হয়।

বার্তা প্রেরক,
জাহাঙ্গীর আলম।