বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন

মজুরি বোর্ড গঠন ও ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

গার্মেন্টস সেক্টরে ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণসহ কারখানা কর্তৃপক্ষের নিপীড়ন-নির্যাতনে শ্রমিক হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ইপিজেডসহ সকল শিল্পাঞ্চলে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও সভা সমাবেশ করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন।
ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আক্তারুজ্জামান খান, ঢাকা পোশাক প্রস্তুতকারী শ্রমিক সংঘের সভাপতি আহমেদ সুজন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম মানিক এবং ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস শহিদ। সমাবেশটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন।

​সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন,গার্মেন্টস মালিকরা যে প্রহসনের মজুরি প্রদান করছে তা দিয়ে বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির (সেপ্টেম্বরে গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪) বাজারে অত্যন্ত কষ্টে শ্রমিকরা দিনাতিপাত করছে। অনেক ক্ষেত্রে ওভারটাইমসহ দৈনিক ১৪/১৫ ঘণ্টা ডিউটি করেও শ্রমিকরা তাদের পরিবার নিয়ে চলতে হিমসিম খাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের জীবনধারণের উপযোগী মজুরি মালিকরা কখনো প্রদান করে না। ন্যূনতম মজুরির সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারিত হয় সেই সব পণ্যের মূল্য দিয়ে যেগুলোর দৈনিক যোগান ছাড়া শ্রমিক তার কর্মক্ষমতা ফিরে পায় না। অথচ একজন শ্রমিক দৈনিক যতটুকু কর্মক্ষমতা হারায় তা পুনরুৎপাদনের জন্য যতটুকু সুষম খাদ্য প্রয়োজন সে খাবার সংগ্রহ করার মত মজুরি শ্রমিকরা পায় না।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন,শ্রমিক ছাড়াও পরিবারে রয়েছে তার স্ত্রী ও সন্তানাদি। তাছাড়া আমাদের রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা না থাকায় পরিবারের সমুদয় দায়িত্ব শ্রমিককেই বহন করতে হয়।। বেকার ভাতা, চিকিৎসা খরচ, শিক্ষা খরচের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না থাকায় শ্রমিকের বাবা-মা এবং স্ত্রী-সন্তান সকলের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব শ্রমিককে পালন করতে হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে প্যারেন্টস কেয়ার এ্যক্ট-২০১৩ এর মাধ্যমে আইনীভাবেও বাবা-মা’র ভরণপোষণের দায়িত্ব সন্তানকে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। ফলে একটি শ্রমিক পরিবারে (৬ জনের পরিবার হিসেবে ধরে মজুরি নির্ধারণ) থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা, শিক্ষা- সবকিছুই চালাতে হয় একজন শ্রমিকের উপার্জন দিয়ে। এরকম বাস্তবতায় শ্রমিকরা বিদ্যমান মজুরিতে টিকতে না পেরে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে রাস্তায় নেমেছে, যদিও একটি শ্রমিক পরিবার কোনরকমে চলার জন্যও মাসিক ৪০-৫০ হাজার টাকার প্রয়োজন।