অন্যান্য

প্রেস বিজ্ঞপ্তি তাঃ ০৫/০৪/২০২৬

কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইট কারখানায় অগ্নিকান্ড
অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুতে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের ক্ষোভ, নিন্দা ও দায়ীদের শাস্তি দাবি

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে একটি গ্যাস লাইট তৈরির কারখানায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৬ জন শ্রমিক মৃত্যু এবং আরও অনেক শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি চৌধুরী আশিকুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যুক্ত বিবৃতিতে এই ঘটনাকে মালিকদের লোভ ও লালসাার শিকার হয়ে ‘কাঠামোগত হত্যাকান্ড’ আখ্যায়িত করে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও দায়ীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন ৪ এপ্রিল দুপুরে আগুন লাগার পর কারখানার গেইট বন্ধ করে দেওয়ায় নিরীহ শ্রমিকদের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বছর খানেক আগেও অগ্নিকান্ডের কারণে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইট তৈরির কারখানায় প্রাথমিকভাবে অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা ছিল না বলে বলা হচ্ছে। এছাড়া একটি টিন শেডের কারখানায় গ্যাস লাইট তৈরি মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য কতটা উপযুক্ত ছিল সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। একের পর এক অগ্নিকান্ড, ভবন ধ্বসের ঘটনায় অকাতরে শ্রমিকদের তাজা প্রাণ ঝরে গেলেও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি। এমনকি অগ্নিকান্ডের দায়ে কোন বিচার পর্যন্ত হয়নি, যার কারণে মালিকদের বেপরোয়া শোষণের বলি হতে হয় শ্রমিকদের। অথচ প্রতিটি অগ্নিকান্ডের পর তদন্ত কমিটি গঠন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা রকম আলোচনা হলেও কিছুদিন পর তা থেমে যায় এবং শ্রমিকদের অনিরাপদ পরিবেশেই জীবিকার তাগিদে জীবনকে তুচ্ছ করে কাজ করতে হয়। প্রত্যেকটি ‘কাঠামোগত হত্যাকান্ডের’ পর ভবন নির্মানের ত্রুটি ও নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ জানা যায়। অথচ নিরাপদ কর্মপরিবেশ আছে কি না তা দেখার জন্য জনগণের টাকায় একাধিক সরকারি সংস্থা রয়েছে। বার বার মালিক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলায় শ্রমিকদের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হতে হয়। তাই অগ্নিকান্ড বা ভবনধ্বস নিছক কোন দূর্ঘটনা নয়, এগুলো হত্যাকান্ডের সাথে তুল্য। প্রতিটি হত্যাকান্ডের জন্য মালিকদের পাশাপাশি সরকারও এর দায় এড়াতে পারে না। প্রত্যেকটি ঘটনার পর সরকার মালিক, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির দুর্নীতি, অবহেলাকে সামনে এনে দূর্ঘটনার জন্য ব্যক্তি বিশেষের উপর দায় চাপিয়ে প্রচলিত ব্যবস্থাকে আড়াল করতে চায়।

নেতৃবৃন্দ জীবিকার তাগিদে কাজে যোগ দেওয়া শ্রমিকদের এমন মর্মান্তিক করুণ মৃত্যুতে গভীর শোক এবং নিহত ও আহতদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সাথে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিককে আইএলও কনভেনশন-১২১ অনুযায়ী একজীবনের আয়ের সমপরিমান ক্ষতিপুরণ, অগ্নিকান্ডের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী সকল পক্ষের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি, অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ সকল কারখানা চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সকল শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

বার্তাপ্রেরক
প্রকাশ দত্ত
সহ-সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ
০১৯২৪০৪৮১৩৯

Web Design BangladeshMymensinghWeb Design Bangladesh