বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন

নেত্রকোনায় হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের মৃত্যুতে বিভিন্ন সংগঠনের শোক প্রকাশ

নেত্রকোনা জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন, রেজি: নং- ময়মন-৬৪ এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মানিক বিশ্বাস আজ ৬ অক্টোবর, ২০২৬ মৃত্যুবরণ করেন। বেলা সাড়ে ১১ টায় নেত্রকোনা জেলা শহরে নিজ বাসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সন্ধ্যায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাংলা ইউনিয়নের বহ্নি গ্রামে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ সময় বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের নেত্রকোনা জেলা কমিটির সভাপতি ও জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারা, নেত্রকোনা জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তাপস সরকার,জেলা মটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং জেলা নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রতন মিয়াসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রয়াতের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধার্পণ করেন।

প্রয়াত মানিক বিশ্বাস

মানিক বিশ্বাস নেত্রকোনা জেলায় হোটেল শ্রমিকদের সংগঠন-সংগ্রাম গড়ে উঠার গোড়াপত্তন থেকে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে আসছিলেন। ২০১৯ সালে নেত্রকোনায় হোটেল রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা দুই দিনের কর্মবিরতি পালন করলে তিনি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। ২০২১ সালে হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিকদের জেলাভিত্তিক ইউনিয়ন গড়ে উঠলে তিনি কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হোন। ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পেশাগত কাজে বাইরে অবস্থান করলে তিনি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালে ইউনিয়ন ৭ দফা দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করলে মালিক শ্রেণির ষড়যন্ত্রে ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এই সময়ে চলমান আন্দোলনকে অগ্রসর করতে মানিক বিশ্বাস দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করেন। মালিক গোষ্ঠীর বিভিন্ন হুমকি থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতেও মানিক বিশ্বাস তার সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রাখেন। আন্দোলনের কারণে শহরের ভিতরকার কোন প্রতিষ্ঠানে তাকে কাজ দিতে না চাইলে শহরের বাইরে কাজ করেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান।

সপ্তাহ দুয়েক আগে মানিক বিশ্বাস হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই সপ্তাহ হসপিটালে ভর্তি থাকার পরও তার সুনির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা যায় নি। তবে দুই পা ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে আসায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার পর্যায়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে জেলার শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে শোকের ছায়া তৈরি হয়।