হামলা-মামলা ও গ্রেফতার-হয়রানির নিন্দা ও ৩০ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণার দাবি ওএসকে শ্রমিক ফেডারেশনের
গার্মেন্টস সেক্টরে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে আন্দোলনকারী শ্রমিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উপর হামল, মামলা, হয়রানি ও গ্রেফতার বন্ধ এবং নবগঠিত মজুরি বোর্ড কর্তৃক অবিলম্বে ৩০ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন ও সাধারণ সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন এক যুক্ত বিবৃতিতে এ আহবান জানান।
বিবৃতিতে, শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণের প্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ডের নির্ধারিত প্রতিনিধির প্রেক্ষিতে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও আইন অনুযায়ী ৩ বছরের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে । নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পোশাক শ্রমিকদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবিকে ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন সমর্থন জানিয়ে ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন শ্রমিকদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। সকলের সোচ্চার হওয়ার মাধ্যমে সরকার পোশাক খাতের মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করে। অথচ আজ ( ১ নভেম্বর, ২০২৬) মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগের দিন রোজিনা আক্তার সুমি, আসাদুল ইসলাম মাসুদ, আলী আজগর, মোরশেদ আলম কাওসার, মোস্তফা কামাল নামে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা যায়। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের সময়ে তাদের গ্রেফতার করার বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। নেতৃদ্বয় এ বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন ও দর কষাকষির অধিকার সংকুচিত করার লক্ষ্যে শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং গ্রেফতারকৃত শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে হবে।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, পোশাক খাতের চলমান মজুরির আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিভিন্নরকম ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ক্রিয়াশীল রয়েছে। আন্দোলনকে ভিতর থেকে অন্তর্ঘাত করে নৈরাজ্যিক অবস্থায় ঠেলে দিয়ে শ্রমিকদের স্বার্থের প্রেক্ষিতে যথাযথ পরিণতিতে যাওয়ার আগেই আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে কাংখিত মজুরি বৃদ্ধি থেকে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র রয়েছে। এক্ষেত্রে মালিক পক্ষের স্বার্থরক্ষাকারী বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত কোন গোষ্ঠী চলমান আন্দোলনে কোন সুযোগ নিতে চাইলে তাদের চিহ্নিত করা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব। তবে কারো বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রেও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সুনির্দিষ্ট করতে হবে। দোষীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত না করে আন্দোলনের দায়ে ঢালাওভাবে শ্রমিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে অভিযুক্ত করা, গ্রেফতার ও হয়রানি করা তথা শ্রমিক আন্দোলন দমনের তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। নেতৃদ্বয় আন্দোলনকারী শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান এবং গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধ করার আহবান জানান।
পোশাক শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেন, মজুরি বোর্ড গঠিত হওয়ার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক প্রতিনিধি বোর্ডে একটি মজুরি প্রস্তাব উত্থাপন করবে। একই সাথে মালিক প্রতিনিধিও তাদের অবস্থান থেকে প্রস্তাব আনবে। দুই প্রস্তাবের দরকষাকষির মাধ্যমে মজুরি নির্ধারিত হবে। ফলে মজুরি নির্ধারণের আইনগত প্রক্রিয়া অগ্রসর করার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি করে কারো উসকানিতে নৈরাজ্যিক কোন তৎপরতার ফাঁদে পা না দিয়ে নিম্নতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সকলকে যৌক্তিক ভূমিকা গ্রহণের আহবান জানান নেতৃদ্বয়।
