রাষ্টায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ
সাম্প্রতিক সময়ে ৩ টি পাটকল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়াসহ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ। সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী আশিকুল আলম এবং যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত এক যুক্ত বিবৃতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি করপোরেশনের আওতাধীন ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ কে জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়- বিগত সরকারগুলোর ধারাবাহিকতায় ‘পুনঃবিনিয়োগ’, ‘পুনর্গঠন’, ‘দীর্ঘমেয়াদি ইজারা’, ‘যৌথ উদ্যোগ’ ও ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এর মতো বিভিন্ন কাঠামোর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি’র নেতৃত্বে জোট সরকার । সরকার এটিকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করলেও মূলত সাম্রাজ্যবাদ ও তার সংস্থাসমুহের পরিকল্পনা কার্যকর করতে সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়- সাম্রাজ্যবাদী সংস্থা বিশ্বব্যাংক- আইএমএফ’র নীতি নির্দেশে সরকারের পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। সেই লোকসানকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে জনগণের সম্পদ বিদেশি লগ্নি পুঁজি এবং দেশীয় মুৎসুদ্দি পুঁজিপতিদের মালিকানায় তুলে দেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর পরামর্শে গৃহীত এসব শ্রমিকবিরোধী নীতি দেশের অর্থনীতিকে আরও দেউলিয়া করে তুলবে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, অতীতে ‘আদমজী জুট মিল’ সহ অসংখ্য লাভজনক ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারি খাতে তুলে দিয়ে দেশের শিল্প খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অতীত এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ বেসরকারি মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার অর্থই হলো হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত করা, গণছাঁটাই, জাতীয় সম্পদ লুটপাট এবং শিল্প খাতকে পুঁজিপতিদের মুনাফার হাতিয়ারে পরিণত করা।
বিবৃতিতে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার গণবিরোধী পরিকল্পনা অবিলম্বে সম্পূর্ণ বাতিল করে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রির অজুহাত না তুলে সেগুলোর দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করে আধুনিকায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে লাভজনক করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানানো হয়। একই সাথে কর্মরত শ্রমিকদের উপর কোন অবস্থাতেই ছাঁটাই প্রক্রিয়া পরিচালনা না করে সকল শ্রমিকের চাকরির নিরাপত্তা, বকেয়া পাওনা প্রদান ও যথাসময়ে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার আহবান জানানো হয়। বিবৃতিতে জনস্বার্থ রক্ষা ও স্বাবলম্বী জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল গুরুত্বপূর্ণ কারখানা ও সেবা খাত রাষ্ট্রীয় মালিকানায় বজায় রাখার আহবান জানানো হয়।
নেতৃদ্বয় সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের সর্বস্তরের শ্রমিক, কর্মচারী, কৃষক ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তি রক্ষা ও নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ ও ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানান।
