গণঅভ্যূত্থানের অন্যতম রূপকার ডা. আশিকুল আলম-এর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
তারিখ: ০৪/০৪/২৬
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
৪ এপ্রিল শনিবার সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা দালালপূঁজি বিরোধী সংগ্রামের অগ্রসেনানী, ’৬৯-এর গণঅভ্যূত্থানের অন্যতম রূপকার, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এর কেন্দ্রীয় নেতা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও বিপিএমপি-এর সাবেক সভাপতি ডা. আশিকুল আলম-এর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে বিকাল ৪টায় এনডিএফ-এর ৮ বি, বি, এভিনিউ, গুলিস্তানস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্রিগেঃ জেনাঃ (অবঃ) ডাঃ এম. জাহাঙ্গীর হোসেন-এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি মোঃ ইয়াছিন, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সভাপতি জিনাত আরা, পরিবারের পক্ষে প্রয়াত ডা.আশিকুল আলমের শ্যালক আকবর উদ্দিন আহমেদ মিলন ও খালাতো ভাই মাসুদ শাহী প্রমুখ। পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত।

এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, ডাক্তার আশিকুল আলম সমাজের মানুষের দুর্যোগের সময় মানবতার সেবায় নিয়োজিত থেকেছেন। তিনি তাঁর এই কাজ কেবল মানবতার সেবক হিসেবে নয় বরং সমাজে এই দুর্যোগের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ গড়ে তোলার মানসিকতা থেকে জনগণকে সচেতন ও সংগঠিত করার কাজে নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন। ডাঃ আশিকুল আলম সমগ্র জীবন এদেশের শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের কাজকে অগ্রসর করেছেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিশ্ব বাজার ও প্রভাব বলয় পুনর্বণ্টন নিয়ে মার্কিনের নেতৃত্বে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ ও তার প্রতিপক্ষ চীন-রাশিয়ার মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে সম্পর্কিত হচ্ছে ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণ ও আগ্রাসন। ইসরাইল-আমেরিকার হামলায় ইরানের সরকারপ্রধান, গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ ও শিশুসহ ব্যাপক হত্যা ও ধ্বংস হয়ে চলেছে। এছাড়াও পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী যে রণডংকা বাজছে তার মূলে রয়েছে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী তীব্র প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ভূরাজনৈতিক-রণনীতিগত সামগ্রিক গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশকে মার্কিনের নেতৃত্বে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা এবং প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়া উভয়েই যুদ্ধ প্রস্তুতিতে সম্পৃক্ত করতে চায়। মার্কিন তার স্বীয় লক্ষ্যেই, “মানবিক করিডোর”, বন্দর ইজারা, স্টার লিংকের সাথে চুক্তি, সামরিক ঘাটি নির্মাণের যে পাঁয়তারা সবই হচ্ছে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার প্রেক্ষিতে। ফলে বাংলাদেশও আজ আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের ক্ষেত্র হতে চলেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির প্রশ্ন আর ইরান-প্যালেস্টাইন-ইউক্রেনে আগ্রাসন তথা সাম্রাজ্যবাদীযুদ্ধ বিরোধী সংগ্রাম একই সূত্রে গাঁথা। আজ তাই প্রয়োজন জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যকে সামনে রেখে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও সকল দালাল বিরোধী শক্তি, ব্যক্তি ও গোষ্ঠিকে ঐক্যবদ্ধ করে বিপ্লবী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম বেগবান করা। সকাল ৮ টায় সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমদ, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সভাপতি জিনাতআরা, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, পরিবারের পক্ষে প্রয়াত ডা.আশিকুল আলমের স্ত্রী ডা.সাদিকা আশিক, মেয়ে ডা. মুনমুন, জামাতা ডা. পারভেজ, ১ মিনিট শোক নিরবতা পালম এবং শপথ পাঠ করান চৌধুরী আশিকুল আলম, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শাহজাহান কবির।
বার্তা প্রেরক
শাহজাহান কবির
সহ-সাধারণ সম্পাদক
মোবাঃ ০১৭-১২০৫-৮২৪৫
